মাদকের ‘অভয়ারণ্য’ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, দিনে বিক্রি হতো ৪০ কেজি গাঁজা
মাদকের ‘অভয়ারণ্য’ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, দিনে বিক্রি হতো ৪০ কেজি গাঁজা

মাদকের ‘অভয়ারণ্য’ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, দিনে বিক্রি হতো ৪০ কেজি গাঁজা

Oplus_131072

রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা স্বস্তির সময় কাটানোর নগরবাসীর অন্যতম পছন্দের স্থান। এর পাশেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। আর কোলঘেঁষেই শাহবাগ থানা। ফলে নগরবাসীও সেখানে যেতে নিরাপদ বোধ করতেন। তবে পর্যাপ্ত নজরদারি ও তদারকির অভাবে উদ্যানটি হয়ে উঠেছিল মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের ‘অভয়ারণ্য’।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার পর একে একে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অন্ধকার দিক। ১৩ মে দিবাগত ১২টার দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চের পাশে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে নিহত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার। তিনি স্যার এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মূলত তিনটি প্রধান চক্র সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রতিদিন গড়ে ৩০–৪০ কেজি গাঁজা বিক্রি করত। এসব চক্রকে বলা হয় ‘গ্রিপ’। প্রতিটি চক্র এলাকা ভাগ করে উদ্যানে মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ করত।
উদ্যান ঘিরে বিভিন্ন ধরনের অপরাধপ্রবণতা রয়েছে। হত্যার তদন্তে সেখানকার অপরাধপ্রবণতাসহ সম্ভাব্য সব বিষয়ই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম, ডিবির যুগ্ম কমিশনার
অনুসন্ধানে জানা যায়, মাদকের তিন চক্রের প্রধান হলেন মেহেদী, পারুলী আক্তার ওরফে পারুল ও নবী। তাঁদের অধীনে ৮–১০ জন গাঁজা বিক্রি করতেন। এই তিন চক্রপ্রধানের বাইরে ফারুক নামের এক ব্যক্তিও সেখানে গাঁজা ব্যবসায় জড়িত ছিলেন। গাঁজা বিক্রি করা হতো সাদা কাগজে মুড়িয়ে ছোট ছোট ‘পুরিয়া’ বানিয়ে। গাঁজা সংগ্রহ থেকে সেবনকারীদের কাছে বিক্রি—এই পুরো প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন অর্ধশতাধিক ব্যক্তি।

গাঁজা বিক্রির এই চক্র ঘিরে পুরো উদ্যানেই গড়ে উঠেছে ভয়ংকর অপরাধজগৎ। গাঁজার ব্যবসার পাশাপাশি সীমিত পরিসরে হেরোইন ও ইয়াবাও বিক্রি হতো উদ্যানটিতে। অনেক ক্ষেত্রে বাইরে থেকে অন্যান্য মাদকদ্রব্য নিয়ে এসে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সেবন করা হতো। উঠতি বয়সীরাই মূলত এই মাদকের ক্রেতা।

উদ্যানের অপরাধজগৎ সম্পর্কে বুঝতে সেখানে নিয়মিত যাতায়াত করেন ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসা রয়েছে, এমন আটজন ব্যক্তির সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর। তাঁরা বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তরুণ–তরুণীরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এসে মাদক সেবন করেন। মূলত সন্ধ্যার পর থেকে রাত দেড়টা–দুইটা পর্যন্ত চলে মাদকের কারবার। দিনের বেলায় বহু মানুষের সমাগম হয় ঐতিহাসিক এই উদ্যানে। এই আগমন ঘিরে বিপুলসংখ্যক হরেক রকমের খাবারের দোকান গড়ে উঠেছিল উদ্যান এলাকায়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রগুলো বলছে, মাদক কারবারের পাশাপাশি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘিরে বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল চোর চক্র এবং ছিনতাইকারী চক্র সক্রিয়। আবার বিভিন্ন সময় যুগলদের ধরে নগদ অর্থ ও মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নেওয়া হয়। এই ব্ল্যাক মেইলিংয়ে জড়িত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বা ছাত্রসংগঠনের নেতা পরিচয় দেওয়া তরুণদের একাধিক গ্রুপ। মূলত এই চক্রটিই বিভিন্ন সময়ে খুন, জখম, ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধে জড়াচ্ছে। আর এই চক্রের পেছনে বিভিন্ন সময়ে ছাত্রনেতাদের রাজনৈতিক আশীর্বাদের কথা সামনে এসেছে।

শাহরিয়ার হত্যার পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। সমালোচনার মুখে উদ্যানের নিরাপত্তা জোরদারে বেশ কয়েকটি উদ্যোগ নেয় সরকার। এর অংশ হিসেবে ১৫ মে উদ্যানে উচ্ছেদ অভিযান চালায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। অভিযানে উদ্যানে গড়ে ওঠা অবৈধ ভ্রাম্যমাণ দোকানপাটসহ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
এলাকা ভাগ করে মাদক কারবার
উদ্যানে আগে একসময় শুধু চা–সিগারেটের ভ্রাম্যমাণ দোকান ছিল। তবে ধীরে ধীরে ফাস্টফুড, ফুচকা ও চটপটিসহ বিভিন্ন দোকান গড়ে ওঠে। আর দোকানগুলো ঘিরে ব্যাপক জনসমাগম হয়। মূলত এই দোকানের আশপাশসহ সুনির্দিষ্ট কিছু স্থান ঘিরে চলে মাদক কারবার।

উদ্যানকেন্দ্রিক একাধিক সূত্র জানায়, সাধারণত উদ্যানে এক পুরিয়া গাঁজা বিক্রি হয় ১০০ টাকায়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরিচয়ে কেউ কেউ টাকা না দিয়েই পুরিয়া নেন, এমন ঘটনাও রয়েছে। ঘুরে ঘুরে গাঁজার পুরিয়া বিক্রি করা হয়। এমনকি শাহরিরয়ার হত্যার পর দুই দিন এই এলাকায় নিয়মিত গাঁজা সেবন চলে। এখনো লুকিয়ে–চুরিয়ে গাঁজা বিক্রি চলছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মেহেদী, পারুলী ও নবী এলাকা ভাগ করে মাদকের নিয়ন্ত্রণ করেন। তাদের হয়ে কাজ করেন অর্ধশতাধিক ব্যক্তি।

উদ্যানের দক্ষিণ–পশ্চিম পাশের পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণ করেন মেহেদী। তাঁর গ্রুপের রবিন ও প্রপেলসহ পাঁচ–ছয়জন এই অংশদের মাদক কারবার দেখভাল করেন। গাঁজা কিনে উদ্যানের মুক্তমঞ্চে প্রকাশ্যেই সেবন করা হয়। আর রমনা কালীমন্দিরের পেছনের অংশে হেরোইন বিক্রি করা হয়। পাশাপাশি এখানে অল্প পরিমাণে ইয়াবার কেনাবেচাও হয়। মূলত কয়েক বছর ধরে উদ্যানের এই অংশটিই তরুণ–তরুণীদের কাছে মাদক সেবনের সবচেয়ে ‘নিরাপদ স্থান’ হয়ে উঠেছিল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র–শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি)–সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ফটক থেকে মাঝখান পর্যন্ত স্থানে মাদকের নিয়ন্ত্রণ করেন পারুল। তবে মাস ছয়েক ধরে পারুলে নিয়মিত উদ্যানে আসেন না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে তাঁর হয়ে মাঠে গাঁজা বিক্রির সমন্বয় করেন হাসিনা নামের এক নারী। পারুল মাদকের কারবার করে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরসহ বিভিন্ন এলাকায় অনেক সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে জানিয়েছে উদ্যানের ভ্রাম্যমাণ অনেক দোকানিসহ অন্য ব্যক্তিরা। পারুলের স্বামীর নাম ইমন। তিনিও স্ত্রীর মাদক কারবারের অন্যতম সহযোগী। ইমন বর্তমানে কারাগারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার বিপরীতে উদ্যানের উত্তর-পশ্চিমাংশ নিয়ন্ত্রণ করেন নবী নামের এক ব্যক্তি। এর বাইরে উদ্যানের পুব পাশে এবং অন্যান্য এলাকায় আরও ছোট ছোট কয়েকটি চক্র ইয়াবা কারবারে জড়িত বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

সূত্রমতে, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গাঁজা আনা হয়। আবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্য অভিযানের সময় উদ্ধার হওয়ার গাঁজার একটি অংশ কারবারিদের কাছে বিক্রি করেন। শাহবাগ থানার সাবেক একজন উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে এই অভিযোগ ছিল। বর্তমানে কর্মরত একজন এসআইও এই চক্রে রয়েছেন বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য, মাদক বিক্রির টাকার একটি অংশ পুলিশের অসাধু সদস্যদের কাছে যায়। অনুসন্ধানে জানা যায়, মূলত তিনটি প্রধান চক্র সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রতিদিন গড়ে ৩০-৪০ কেজি গাঁজাবিক্রি করত। এসব চক্রকে বলা হয় ‘গ্রিপ’। প্রতিটি চক্র এলাকা ভাগ করে উদ্যানে মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ করত।
মাদক কারবারিদের হাতে ‘সুইচ গিয়ার’
উদ্যানের বিভিন্ন ঘটনায় এখন পর্যন্ত অনেক অপরাধীই ধরা পড়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দেওয়া ওই অপরাধীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখানকার মাদক কারবারীদের বড় অংশই সঙ্গে সুইচ গিয়ার (চাকু) অথবা টেজার (ইলেকট্রিক শক স্টানগান) রাখেন। শাহরিয়ার হত্যার পর উদ্যানে দীর্ঘদিন ধরে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায় জড়িত এমন তিনজন ব্যক্তিও প্রথম আলোকে এই দুই ধরনের অস্ত্রের কথা জানিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মূলত গ্রেপ্তার এড়াতে এবং প্রতিপক্ষের সঙ্গে ঝামেলার সময় আত্মরক্ষার জন্য মাদক কারবারিরা সুইচ গিয়ার ও টেজার সঙ্গে রাখেন। আবার মাদক কারবারিদের হয়ে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের কাছ থেকেও বিভিন্ন সময় টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ জন্য মাদক কারবারে জড়িত ব্যক্তিরা সব সময় সঙ্গে অস্ত্র রাখেন।

বিভিন্ন সময়ে উদ্যানে যাওয়া ব্যক্তিদের ওপর হামলার ঘটনায়ও জড়িয়েছেন এই অপরাধীরা। যেমন কিছুদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মচারীর ছেলেকে মারধর করেছিলেন মেহেদী ও তাঁর সহযোগীরা। পরে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে ঘটনাটি আপসরফা হয়।
শাহরিয়ার হত্যার দিন কী হয়েছিল
১৩ মে দিবাগত রাত ১২টার দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চের পাশে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে শাহরিয়ার গুরুতর আহত হন। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।
আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের সময় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও সংশ্লিষ্ট এলাকার আশপাশে ছিলেন, এমন পাঁচজন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে পেরেছে প্রথম আলো। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে সেদিনের ঘটনা সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া গেছে।
ওই ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, শাহরিয়ার তাঁর দুই বন্ধু রাফি ও বায়েজিদকে নিয়ে উদ্যানে মোটরসাইকেলে করে ঘুরতে গিয়েছিলেন। সেখানে তাঁদের ওপর আক্রমণ করেন মেহেদী গ্রুপের সদস্যরা। তাঁরা প্রথমে শাহরিয়ারকে টেজার দিয়ে আক্রমণ করেন। একপর্যায়ে শাহরিয়ার তাঁদের থামানোর চেষ্টা করলে সুইচ গিয়ার দিয়ে তাঁর উরুতে আঘাত করা হয়। এ সময় পাশে দাঁড় করিয়ে রাখা আরেকটি মোটরসাইকেল পরে যায়। সেটি ছিল কয়েকজন মাদকসেবীর। তখন ওই গ্রুপটিও শাহরিয়ারদের ওপর হামলায় অংশ নেয়। আবার মেহেদী গ্রুপের লোকজনও ওই মাদকসেবীদের শাহরিয়ারদের পক্ষে লোক মনে করে তাঁদের ওপর হামলা চালায় এবং সম্রাট নামের একজনের উরুতে সুইচ গিয়ার দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করা হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করা একজন প্রথম আলোকে বলেন, শাহরিয়ারকে আঘাত করা ব্যক্তি ছিলেন সাদা পোশাক পরা। ঘটনার পরপরই তিনি একটি মোটরসাইকলে চড়ে পালিয়ে যান।

শাহরিয়ার হত্যা মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, উদ্যান ঘিরে বিভিন্ন ধরনের অপরাধপ্রবণতা রয়েছে। হত্যার তদন্তে সেখানকার অপরাধপ্রবণতাসহ সম্ভাব্য সব বিষয়ই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঢাবি উপাচার্যের সঙ্গে পুলিশের সাক্ষাৎ
এদিকে শাহরিয়ার হত্যার তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গতকাল রোববার পুলিশের বরাত দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
শিগগিরই পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের সঙ্গে দেখা করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলম, সহকারী কমিশনার (প্যাট্রোল) মো. আমজাদ হোসেন এবং শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মনসুর উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে পুলিশ জানায়, অধিকতর তদন্তের স্বার্থে এখন পর্যন্ত যে অগ্রগতি হয়েছে, সেটি সবাইকে জানানো সম্ভব হচ্ছে না। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাঁদের দেওয়া তথ্যমতে আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে আরও কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


আমিনবাজার ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি মাসুদ রানা পলিনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

 

আসন্ন আমিনবাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পর থেকে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মাসুদ রানা পলিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি আমিনবাজার ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে নিজের নাম ঘোষণার পর থেকেই একটি কুচক্রী মহল তার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে ফাঁসানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি রাজপথে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তার সেই রাজনৈতিক অবস্থান ও জনসমর্থনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই প্রতিপক্ষরা এই চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে।

 

এ বিষয়ে মাসুদ রানা পলিন বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করায় এবং আমার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল এই মিথ্যা অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে। এসব ষড়যন্ত্র করে জনগণের সেবা থেকে আমাকে সরিয়ে রাখা যাবে না।

 

তিনি সব ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে আমিনবাজার ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের অধিকার ও উন্নয়নের পক্ষে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এদিকে, তার বিরুদ্ধে চলমান এই ভিত্তিহীন অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও সচেতন এলাকাবাসী।

আমিনবাজার ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি মাসুদ রানা পলিনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা

রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ছাতার ভেতরে দুটি তাজা বোমা পাওয়া গেছে। যা উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল টিম।

 

শুক্রবার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যায় খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেয়।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ছাতাটির বোতামে চাপ দিলেই ডিভাইসটি যেন বিস্ফোরিত হয়, এমন করে এটি তৈরি করা হয়েছিল।

 

মেট্রো স্টেশনে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা জানান, সন্ধ্যা ৬টার দিকে শাপলা চত্ত্বরের দিকে একটি রথযাত্রা যাচ্ছিল। তখন রথযাত্রার একজন তাদেরকে রাস্তায় একটি ছাতা পড়ে থাকার তথ্য দেয়। তারা ছাতাটি ধরতেই ভেতরে লাল আলো জ্বলতে দেখেন। ছাতাটি সেখানে রেখে পুলিশকে খবর দেন আনসার সদস্যরা। পুলিশ এসে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সড়ক বন্ধ করে দেয় এবং বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেয়। পরে বোম ডিসপোজাল ইউনিট এসে ৭টা ৫০ মিনিটে একটি বোম এবং অপরটি ৮টা ১০ মিনিটে নিস্ক্রিয় করে।

মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ছাতার ভেতর বোমা, নিষ্ক্রিয় করল পুলিশ

ঢাকার আমিনবাজার-হেমায়েতপুর মহাসড়কের পাশে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বর্জ্য ফেলতে গিয়ে তিনজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী জেলা প্রশাসকের আকস্মিক পরিদর্শনে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন। ঘটনাস্থলেই তাদের সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মহাসড়কের পাশে বর্জ্য ফেলা সম্পূর্ণ বন্ধ করে সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম আমিনবাজার-হেমায়েতপুর মহাসড়কসংলগ্ন পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম পরিদর্শনে গেলে এ ঘটনা ধরা পড়ে।

 

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এর আগেও একাধিকবার মহাসড়কের পাশে কোনো অবস্থাতেই বর্জ্য না ফেলার নির্দেশনা দেওয়া হলেও কয়েকজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী তা অমান্য করে সেখানে বর্জ্য ফেলছিলেন। ঘটনাস্থলেই জেলা প্রশাসক অভিযুক্তদের তীব্র ভর্ৎসনা করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন।

 

পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, মহাসড়কের পাশে কোনোভাবেই বর্জ্য ফেলা যাবে না। এ বিষয়ে আগেই স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারপরও যারা নির্দেশ অমান্য করেছে, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও জনস্বার্থের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

 

জেলা প্রশাসন জানায়, পরিবেশ দূষণ রোধ, দুর্গন্ধমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে মহাসড়ক ও জনবহুল এলাকায় অবৈধভাবে বর্জ্য ফেলা বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণের কারণে ভোগান্তিতে থাকা আমিনবাজার থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত মহাসড়ককে পরিচ্ছন্ন, দৃষ্টিনন্দন ও পরিবেশবান্ধব করে তুলতে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

 

এ কর্মসূচির আওতায় মহাসড়কের দুই পাশে বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা ও অবৈধভাবে ফেলা বর্জ্য অপসারণ করে নির্ধারিত ল্যান্ডফিলে স্থানান্তর করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাস্তার দুই পাশ বালি ও মাটি দিয়ে ভরাট করে স্লোপ নির্মাণের কাজ চলছে, যাতে বর্ষাকালে মাটি ক্ষয় রোধ করা যায়। সবুজায়নের অংশ হিসেবে সড়কের দুই পাশে নিম, সুপারি ও নারিকেল গাছ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভবিষ্যতে যাতে কেউ মহাসড়কের পাশে বর্জ্য ফেলতে না পারে, সে জন্য দুই পাশে সুরক্ষা বেড়া নির্মাণেরও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

 

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, মহাসড়ককে স্থায়ীভাবে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব রাখতে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। এ ধরনের অনিয়মে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

মহাসড়কে বর্জ্য ফেলতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা ৩ পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ডিসির নির্দেশে সাময়িক বরখাস্ত

রাজধানীর উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রো রেল রুটে বেয়ারিং প্যাডের ২৩.২৮ শতাংশ বা ৭৩০টি ত্রুটিপূর্ণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ৪৬টি পিয়ার হেড এবং অন্তত ২০টি বক্স গার্ডারে ফাটল শনাক্ত হয়েছে।

 

স্বাধীন নিরাপত্তা অডিট কমিটির প্রতিবেদনে এসব ত্রুটি উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয় এমআরটি লাইন-৬ এখন একাধিক কাঠামোগত ও পরিচালনগত ত্রুটি নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।

 

কমিটির ভাষায়, এসব ত্রুটি বিচ্ছিন্ন নয়; বরং একটি ‘যৌগিক ঝুঁকি প্রোফাইল’ তৈরি করেছে, যা যাত্রী নিরাপত্তা ও অবকাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বের জন্য উদ্বেগজনক। এসব ত্রুটির পেছনে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার, নির্মাণত্রুটি কিংবা নকশাগত দুর্বলতা—সবই সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। এখন পর্যন্ত ত্রুটির মূল কারণ নির্ণয় কিংবা পূর্ণাঙ্গ প্রতিস্থাপন কর্মসূচির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

গত বছরের ২৬ অক্টোবর ফার্মগেট এলাকায় একটি বেয়ারিং প্যাড নিচে পড়ে পথচারীর মৃত্যুর ঘটনার পর হাইকোর্ট ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ডিএমটিসিএল ৯ সদস্যের একটি স্বাধীন নিরাপত্তা অডিট কমিটি গঠন করে। চুয়েটের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন গত মে মাসে জমা দেওয়া হয়।

কমিটির পরিদর্শনে দেখা গেছে, ৭৩০টি বেয়ারিং প্যাড ত্রুটিপূর্ণ। ৪৪২, ৪৪৬ ও ৪৪৮ নম্বর পিলারে ট্রেন চলাচলের সময় বেয়ারিং প্যাডে অস্বাভাবিক ধাক্কা লাগছে এবং ৪২৩ নম্বর পিলারে একটি বেয়ারিং প্যাড স্থানচ্যুত হওয়ার ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।

 

বেয়ারিং প্যাডের পাশাপাশি ৪৬টি পিলার হেড এবং ২০টি বক্স গার্ডারে ফাটল শনাক্ত হয়েছে।

 

কোথাও কোথাও কংক্রিট খসে পড়ার ঘটনাও ধরা পড়েছে। বিশেষ করে ৩৪১ নম্বর পিলারের ফাটল নির্ধারিত নিরাপদ সীমার চেয়ে বড় হওয়ায় সেটিকে উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে রেখেছে কমিটি। অথচ এসব ফাটলের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, ক্র্যাক গেজ স্থাপন কিংবা অনুমোদিত প্রকৌশল পদ্ধতিতে মেরামতের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কমিটির মতে, এ ধরনের অবহেলা ভবিষ্যতে কাঠামোগত ঝুঁকি আরো বাড়িয়ে দিতে পারে।

 

অডিটে বলা হয়েছে, অস্বাভাবিক কম্পন, ঝাঁকুনি, ট্র্যাকের ত্রুটি এবং বেয়ারিং প্যাডের সমস্যার কারণে মেট্রো রেলের যাত্রী-স্বাচ্ছন্দ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মূল নকশা অনুযায়ী ট্রেনের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে ১০টি অংশে টেম্পোরারি স্পিড রেস্ট্রিকশন (টিএসআর) জারি রয়েছে। এসব স্থানে ট্রেন ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৯০ কিলোমিটার গতিতে চলাচল করছে। কোনো কোনো অংশে প্রকৃত গতি নেমে আসছে মাত্র ৪৪ থেকে ৪৭ কিলোমিটার পর্যন্ত। কমিটির পর্যবেক্ষণ, মূল সমস্যার সমাধান না করে শুধু গতি কমিয়ে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে, যা স্থায়ী সমাধান নয়।

 

পরিচালনগত সমস্যার মধ্যেও সবচেয়ে গুরুতর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ট্রেনের আন্ডারশুটিং। অস্বাভাবিক ব্রেকিংয়ের কারণে ট্রেন নির্ধারিত স্টপিং পয়েন্টের আগেই থেমে যাচ্ছে। ফলে ট্রেনের দরজা ও প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোরের মধ্যে অসামঞ্জস্য তৈরি হচ্ছে এবং যাত্রীদের পড়ে যাওয়া বা আটকে পড়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে। এই সমস্যার কারণে এরই মধ্যে পাঁচটি ট্রেনসেট রাজস্বভিত্তিক পরিচালনা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ট্রেনের চাকার ক্ষয়, সম্ভাব্য ফাটল, দরজা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ত্রুটি এবং ওভারহেড ক্যাটেনারি সিস্টেমে ক্রমাগত বৈদ্যুতিক স্পার্কিংকেও বড় নিরাপত্তাঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

 

কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন বছরের বেশি সময় ধরে ডিপো এলাকায় ট্র্যাক বসে যাওয়ার সমস্যা অব্যাহত রয়েছে। নিয়মিত মেরামত করা হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।

 

অডিটে আরো উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে যে এখনো পুরো মেট্রো রেলে কোনো কার্যকর রিয়াল-টাইম স্ট্রাকচারাল হেলথ মনিটরিং ব্যবস্থা নেই। ফলে পিলারের ফাটল, বেয়ারিং প্যাডের স্থানচ্যুতি, ট্র্যাক বসে যাওয়া কিংবা অস্বাভাবিক কম্পনের মতো বিষয়গুলো তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করার সুযোগ নেই।

 

এ বিষয়ে অডিট কমিটির সদস্য এবং বুয়েটের অধ্যাপক ড. শামসুল হক বলেন, বর্তমানে বেয়ারিং প্যাডে ব্র্যাকেট বসানো, গতি কমিয়ে ট্রেন চালানো কিংবা অতিরিক্ত রক্ষণাবেক্ষণের মতো পদক্ষেপগুলো মূলত সাময়িক ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা; এগুলো কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। এ অবস্থায় কমিটি জরুরি ভিত্তিতে উচ্চ ঝুঁকির বেয়ারিং প্যাড প্রতিস্থাপন, ফাটল পর্যবেক্ষণে ক্র্যাক গেজ স্থাপন, পূর্ণাঙ্গ ডাইনামিক ভাইব্রেশন পরীক্ষা, ট্র্যাক ও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার ত্রুটি দূরীকরণ এবং আন্তর্জাতিক মানের স্বাধীন নিরাপত্তা পর্যালোচনার সুপারিশ করেছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ মেয়াদে স্মার্ট স্ট্রাকচারাল হেলথ মনিটরিং ব্যবস্থা চালু, ডিজিটাল ত্রুটি ব্যবস্থাপনা এবং স্বাধীন সেফটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠনেরও আহবান জানিয়েছে কমিটি।

মেট্রোরেলের ৭৩০টি বেয়ারিং প্যাড ত্রুটিপূর্ণ

টানা কয়েক ঘণ্টার ভারী বর্ষণে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। প্রধান সড়ক, অলিগলি ও গুরুত্বপূর্ণ মোড় পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে নগরজীবন। কোথাও হাঁটু, আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

ভারী বৃষ্টির কারণে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। পানির নিচে ডুবে গেছে অসংখ্য ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস, সিএনজি ও মোটরসাইকেল। অনেক যানবাহন মাঝপথে বিকল হয়ে পড়ায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষকে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা গেছে।

জলাবদ্ধতার কারণে অফিসগামী চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে। অনেক এলাকায় দোকানপাট ও নিচতলার বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে গণপরিবহন সংকটের কারণে অনেক যাত্রীকে দীর্ঘ সময় সড়কে অপেক্ষা করতে হয়েছে।

নগরবাসীর অভিযোগ, সামান্য সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পানির নিচে চলে যাওয়া ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতারই প্রতিফলন। প্রতি বর্ষা মৌসুমেই একই ধরনের জলাবদ্ধতার পুনরাবৃত্তি হলেও স্থায়ী সমাধান মিলছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা। দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

আবহাওয়ার এমন পরিস্থিতিতে অপ্রয়োজনীয় বাইরে বের না হওয়া, জলাবদ্ধ এলাকায় সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করা এবং বৈদ্যুতিক ঝুঁকি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জনদুর্ভোগ অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাজধানী ঢাকায় টানা ভারী বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত, তীব্র জলাবদ্ধতায় স্থবির নগরজীবন

সাভারে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম ঠেকাতে সাভারে রাজপথে সাভার পৌর যুবদল নেতা আশরাফুল ইসলাম আরিফ।

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

 

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতা ও কার্যক্রম প্রতিহত করতে সাভারের রাজপথে অবস্থান নিয়েছে সাভার পৌর যুবদল।

 

আজ (২৩ জুন) সাভার পৌর এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও প্রধান সড়কে যুবদলের নেতাকর্মীদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাভার পৌর যুবদলের সভাপতি পদপ্রার্থী ও সাভার পৌর ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মোঃ আশরাফুল ইসলাম আরিফ, সাভার থানা শ্রমিক দলের সহ-সভাপতি মোঃ রাকিব আহম্মেদ, সহ আরো অনেকেই। এ সময় আশরাফুল ইসলাম আরিফ

জানান, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের দোসর ও নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ যেন নতুন করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপতৎপরতা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য তারা মাঠ পর্যায়ে পাহারায় রয়েছেন। সাভারের শান্ত পরিবেশ বজায় রাখতে এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় এই অবস্থান ও সর্তক পাহারা অব্যাহত থাকবে বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

 

কর্মসূচিতে সাভার পৌর যুবদল , ছাত্রদল সহ বিভিন্ন ওয়ার্ড বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

সাভারে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম ঠেকাতে সাভারে রাজপথে সাভার পৌর যুবদল নেতা আশরাফুল ইসলাম আরিফ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্ক, দীপক বাহিনীর হাতে আহত ৫

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্কে, থমথমে পুরো মনপুরা। আসন্ন 2 নং হাজিরহাট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী প্রচারণা কালীন সময় প্রার্থী নিজামুদ্দিন হাওলাদারের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠে এসেছে। প্রার্থীকে বেধড়ক মারধর করায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন, নাছির(২৩), আল আমিন(২৫),জিদনী (১৮),অনি (২৩)কাশেম(২৮),অজয়(২৬)

আহতদের পরিবার জানিয়েছেন আহতদের অবস্থা গুরুতর, চিকিৎসার জন্য জেলাতে নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।।

মেম্বার প্রার্থী নাসির অভিযোগ করে বলেন , স্থানীয় প্রশাসন অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে,মাঠ প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন, দীপক রাশি বাহিনী এরপর এক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, আমি নির্বাচন প্রতারণা চলাকালীন সময়ে অতর্কিত দীপক বাহিনীর মূল হোতা সন্ত্রাসী মাকসুদের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র সহ আমাকেও আমার তুই ছেলের উপর হামলা চালান।। এতে করে আমিও আমার ছোট ছেলে আমিন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে রয়েছি।। মনপুরা পুলিশ প্রশাসনের নিকট আমি অভিযোগ করেছি।ওসি মনপুরা এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই। তিনি আরো বলেন সন্ত্রাসী ফারুক ফরাজী, ইলিয়াছ চৌধূরী, ইলিয়াস ফরাজী, ফুহাদ আওলাদ মাতাব্বর, মনির ফরাজী, খোকন পর এক নানা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য একের পর এক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও ওসি মনপুরা এখন পর্যন্ত কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে নাই, চিরে যদি সন্ত্রাসীদের দমন না করা হয় তাহলে নির্বাচন হবে মনপুরা হবে ঝুঁকিপূর্ণ, নির্বাচনে মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পড়বেন।। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আকিব ওসমান মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে কাজ করলেও এখন পর্যন্ত মনপুরা মাঠ নিয়ন্ত্রণে আনতে পরিপূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।।

অপর চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নিজাম উদ্দিন হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন পরোক্ষভাবে প্রত্যক্ষভাবে দীপক বাহিনী এ ধরনের ঘটনা চলেছেন, অতর্কিত হামলা, চোরাগুপ্তা হামলা সহ নানা ধরনের কর্মের সাথে পার্থী শাহরিয়া দীপক সরাসরি জড়িত রয়েছেন।।

মুঠোফোনে প্রার্থী শাহরিয়ার চৌধুরী দীপক এর নিকট জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন কাটিয়ে দেন।

বিষয়টি নিয়ে ওসি মনপুরা কে বারবার ফোন করলেও এখন এখন পর্যন্ত মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।।

বিষয়টি নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাকিম ওসমান এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন আমি অতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি, মনপুরাকে মামলা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করেছি।। অচিরেই মনপুরায় মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে আনাতে আমি নিরস কাজ করছি।।

উল্লেখ্য এই যে মনপুরা উপজেলা একের পর এক আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় প্রার্থী শাহরিয়ার দীপক বিরুদ্ধে শাহরিয়ার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগ হয়েছে যা পত্র-পত্রিকা ও গণমাধ্যমে বেশ কয়েকবার প্রকাশিত হয়েছে।। আজকের চোরাগুপ্তা হামলা সহ নানা অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।।। কোন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে মনপুরা থানা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।।

আসছে বিস্তারিত……. সাথে থাকুন

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্ক, দীপক বাহিনীর হাতে আহত ৫

এস এম খলিলুর রহমান
ব্যুরো চীফ হবিগঞ্জ জেলা ॥

নবীগঞ্জ পৌর এলাকার গয়াহরি গ্রামে নিরীহ ব্যক্তি বিজিত দাশ মেটনের উপর সন্ত্রাসী হামলার দায়েরী মামলার অন্যতম আসামী কাউন্সিলর যুবরাজ গোপসহ অপর আসামীদের গ্রেফতার না করায় পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন বাদিনী সুপ্রিয়া রানী দাশ। শনিবার (১২ জুন) সকালে নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব কার্যালয়ে অনুষ্টিত সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুপ্রিয়া রানী দাশ বলেন, গেল পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কাউন্সিলর যুবরাজ গোপ তার পরিবারের উপর ক্ষিপ্ত হন। এরজের ধরে বিগত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় নবীগঞ্জ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডস্থ গয়াহরি গ্রামে জ্যোতিষ দাশের বাড়ি সামনে রাস্তার উপর পেয়ে আমার স্বামী বিজিত দাশ মেটনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করেন আমাদের ওয়ার্ড কাউন্সিলর যুবরাজ গোপ, জ্যোতিষ দাশ, সীমা রানী দাশ, উৎফল দাশ ও লিপ্টু দাশসহ একদল লোক। তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আমার স্বামী গুরুতর আহত হয়ে সিলেট ও ঢাকা হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহন করি। আমার স্বামী আহত হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিল। পুলিশ ঘটনার খবর পেয়ে আমার স্বামীর রক্তাক্ত অবস্থা দেখে তাৎক্ষনিকভাবে জ্যোতিষ দাশকে গ্রেফতার করে। পরে ৫৪ ধারায় জেল হাজতে প্রেরন করে পুলিশ। এ ব্যাপারে আমি নবীগঞ্জ থানায় মামলা নিয়ে গেলে পুলিশ আদালতের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে আমি বাদী হয়ে হবিগঞ্জ আদালতে উল্লেখিত দুর্বৃত্তদের আসামী করে মামলা দায়ের করি। মামলাটি আদালতের নির্দেশে এফআইআর হিসেবে নবীগঞ্জ থানায় রুজু হয়। মামলা রুজু হলেও মামলার অন্যতম আসামী যুবরাজ গোপসহ অপরাপর আসামীদেরকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। অথচ যুবরাজ গোপ প্রকাশ্যে নবীগঞ্জ শহরে ও বাড়িতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি অসহায় একজন মহিলা, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই লুৎফুর রহমানকে বারবার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও আসামী গ্রেফতার করিতে তিনি গড়িমশি করছেন। এদিকে আমার স্বামীর বর্তমান শারীরিক অবস্থা এখন পর্যন্ত ভাল নয়। বিছানায় শয্যাসায়ী আছেন। দারিদ্রতার কারনে আমার স্বামীর চিকিৎসা করাইতে গিয়ে ইতিমধ্যে ভিটে বাড়ি বিক্রি করতে হয়েছে। সামাজিক বিচার থেকে বঞ্চিত হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েও আমাদের এত বিড়ম্বনা পোহাতে হবে, তা জানা ছিলনা।
বর্তমানে আমার আহত স্বামী বিজিত দাশ কথা বার্তা বলতে পারছেন না, বাম চোখেঁ দেখতেও পান না। ঘটনাটি এলাকার সকল মানূষ অবগত রয়েছেন।
ন্যায় বিচারের স্বার্থে আমার দায়েরী মামলার অন্যতম আসামী যুবরাজ গোপসহ অপর আসামীদের গ্রেফতার পুর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সাংবাদিকদের মাধ্যমে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

নবীগঞ্জে আসামী গ্রেফতার না করায় পুলিশের বিরুদ্ধে বাদিনীর সংবাদ সম্মেলন

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩